প্রজন্ম২৪ ডেস্ক
ছবি: ফাইল
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমি অসাম্প্রদায়িক কথাটা বিশ্বাস করি না। দেশের সংবিধানে প্রত্যেকটি নাগরিকের অধিকার সমান। কারো বেশি নয়, কারো কম নয়। সংখ্যালঘু, সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সাম্প্রদায়িক- এ শব্দগুলো ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
এগুলো ব্যবহার করা মানে কোথাও একটা সমস্যা আছে ধরে নেয়া। আমরা সবাই নাগরিক, এটিই আমাদের মূল পরিচয় হওয়া উচিত। আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আমির খসরু বলেন, বৈচিত্র্য ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র এগোতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা দিয়েছে, আবার একটি দাতব্য পরিবার সহায়তা করেছে। এ সমন্বয়টাই আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে মন্দির স্থাপন কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠে বৈচিত্র্যের বাস্তব প্রতিফলন। আমরা যে ইউনিটি ইন ডাইভারসিটির কথা বলি, আজকের এ উদ্যোগ সেটিরই উদাহরণ। সবকিছু সরকার একা করতে পারে না। সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা বাংলাদেশকে একটি রেইনবো নেশন হিসেবে দেখতে চাই। এ দেশের সীমানার মধ্যে যারা বাস করে, তারা সবাই প্রথমে বাংলাদেশী। এরপর তাদের ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি-যা আমাদের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি অনেকদিন পরে এসেছি। মনে হচ্ছে এক অসাধারণ প্রকৃতিতে ঢুকে গেছি। এ পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে হবে। এজন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। একটি সুস্থ ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। আমি উপাচার্যকে আবাসনের জন্য বলেছি আপনারা প্রস্তাব দিন, আমরা সহযোগিতা করব। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল দরকার।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।