ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

৯ মাসেই রেকর্ড ৯৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

প্রজন্ম২৪ ডেস্ক

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল,২০২৬, ১০:১৯ এ এম
৯ মাসেই রেকর্ড ৯৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপের পাহাড় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক-কর আদায়ের ঘাটতি প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রেকর্ড ছুঁইছুঁই। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই নয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ ঘাটতি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠিন শর্ত, অন্যদিকে নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারে ধীরগতি—সব মিলিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের অর্থনীতি। জ্বালানি সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার ঝুলে যাওয়ায় অর্থবছরের বাকি তিন মাসে এই বিশাল লক্ষ্য পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এনবিআরের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো ১২ মাসে মোট ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। অথচ বর্তমান অর্থবছরের মাত্র ৯ মাসেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি ছিল ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা; অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
রাজস্ব আদায়ের তিনটি প্রধান খাত—আমদানি শুল্ক, ভ্যাট (মূসক) ও আয়কর; কোনো খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। যদিও গত বছরের তুলনায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ১১.১৫ শতাংশ, কিন্তু তা বিশাল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নগণ্য। সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে আয়কর খাতে। ১৩১,০৯৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৮০,২২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই এক খাতেই ঘাটতি প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এখানে ঘাটতি প্রায় ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজস্ব খাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষে কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে এনবিআর বিলুপ্ত করে নীতি প্রণয়ন ও কর আদায়ের কাজ আলাদা করার একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সংস্কার প্রক্রিয়া থমকে গেছে। এনবিআর সংস্কার সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পেশ না করায় তা কার্যকারিতা হারিয়েছে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, "বর্তমান আমলাতান্ত্রিক ও পুরোনো কাঠামো দিয়ে এত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব। এনবিআর নিজেই নীতি বানায় আবার নিজেই আদায় করে—এখানে কোনো জবাবদিহি নেই। সংস্কার ছাড়া কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা ও কর ফাঁকি বন্ধ করা যাবে না।"
আইএমএফ-এর ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো প্রতি বছর জিডিপির আধা শতাংশের বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা। বর্তমানের এই বিশাল ঘাটতি আইএমএফ-এর শর্ত পালনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইএমএফ মনে করে, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন এবং এটি না বাড়ালে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরবে না। রাজস্ব সংস্কার থমকে যাওয়ায় এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় আইএমএফ-এর পরবর্তী কিস্তির অর্থ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থবছরের বাকি মাত্র তিন মাস (এপ্রিল-জুন)। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী এনবিআরকে বছর শেষে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ছুঁতে হবে। এর মানে হলো, আগামী ৩ মাসে এনবিআরকে আরও ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা আদায়ের চাপ রয়েছে। বাস্তবতা হলো, চলতি অর্থবছরে কোনো মাসেই এনবিআর ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করতে পারেনি। সেখানে এক মাসে ৭২ হাজার কোটি টাকা আদায় করাকে অলৌকিক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
রাজস্ব আদায়ের এই শ্লথগতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাকে। ডলার সংকটের কারণে আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও লোহিত সাগরে সংকটের কারণে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বেড়েছে। নতুন সরকার আসলেও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা না থাকায় নতুন বিনিয়োগকারীরা ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি অনুসরণ করছেন।

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)