প্রজন্ম ডেস্ক: যশোর
ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের সকল মসজিদের খতিব, ইমামদেরকে পর্যায়ক্রমে উৎসব ভাতার আওতায়আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোরে মুক্তিযোদ্ধা ও পেশাজীবীদের সম্মানে জেলা বিএনপির ইফতার মাহফিলে বক্তৃতাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো-জনগণের সমর্থনে বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে অসচ্ছল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ফ্যামেলি কার্ডের আওতায় আনবে। যার ফলে রাষ্ট্র প্রতিমাসে তাদের সহযোগিতা করবে। এই উদ্যোগ আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সার বীজ ও তার ফসলের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পায়। সেই ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। কৃষি কার্ড ও ফ্যামেলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট ঈদের আগেই শুরু হচ্ছে। তেমনি ইমাম মুয়াজ্জিন কিংবা বিভিন্ন ধর্মগুরুদের প্রতি মাসে সম্মানি ভাতা দিতে চাই। কারণ মসজিদ মন্দির কমিটি তাদের যে ভাতা দেন; সেটি দিয়ে তাদের সংসার চলে না। ঈদুল ফিতরের আগে দেশের সকল মসজিদের খতিব, ইমামদের পর্যায়ক্রমে উৎসব ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় অন্য ধর্মগুরুরাও এই সুযোগের আওতায় আসবেন।’সাড়ে ১২ লাখ কৃষকের কৃষি ঋণ মওকুফ করার জন্য সরকারের দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা রাখবার উদ্দেশ্য আমাদের প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছি। তার অংশ হিসাবে গতকালের (বৃহস্পতিবার) কেবিনেট মিটিংয়ে সাড়ে ১২ লাখ কৃষকের কৃষি ঋণের সুদআসল মওকুফ করবে সরকার। এর জন্য ব্যয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকা।’
তিনি বলেন, পবিত্র রমজানে ইফতারের পবিত্র মুহূর্তে আবারো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যশোরে কোনো মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর সন্ত্রাসী গংদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দিবে না বিএনপি। যশোরবাসীর কাছে আমার দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে। যশোরবাসীর কাছে আমার প্রতিশ্রুতি ছিলো যশোরে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা। সেই ভোগান্তি লাঘবে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে ৫০ শতাংশ ভোগান্তি কমে আসবে। এই শহরে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে চান, তাহলে এক্ষেত্রে অব্যশই রাজনীতিক পৃষ্টপোষকতা বন্ধ থাকতে হবে। আমি আবারও এই রমজানে ইফতারের পবিত্র মুহূর্তে আবারো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যশোরে কোনো মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর সন্ত্রাসী গংদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দিবে না বিএনপি।যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আহসান হাবীব, যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানা, যশোর-২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক হুসাইন সাফায়াত, যশোর চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মকবুল হোসেন, এলজিইডির সাবেক কর্মকর্তা প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকার দাস রতন, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, ঢাবি ফোরাম যশোরের সভাপতি সাইফুল্লাহ খালিদ, সাধারণ সম্পাদক আশফাকুজ্জামান খান রনি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসা এ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মান্নান বিশ্বাস, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সুলতান, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলা সভাপতি এরশাদ আলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সিমা খাতুন প্রমুখ। এছাড়া ইফতার মাহফিলে মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।